মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন

রায়পুরে মহামারী”আইপিএল” জুয়া, চাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

লক্ষ্মীপুরের চিত্র
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪২ বার দেখা হয়েছে
চলছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সফল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হলো আইপিএল।
এই করোনা মহামারির মধ্যেও আইপিএল খেলা চলছে। এর সঙ্গে সঙ্গে আইপিএল নিয়ে চলছে জুয়ার রমরমা কারবার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ঘরোয়া পর্যায়েও আমাদের রায়পুর উপজেলায় জুয়া খেলা ছড়িয়ে পড়েছে,ঘরোয়া জুয়া খেলার জন্য অনেকে টেলিভিশনের পর্দায় জড়ো হয় অথবা ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। রায়পুরে সকল বাজার এবং জনপদে  এই জুয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। সাধারণত যুবকেরাই এতে অংশ নেয়। এই খেলা নিয়ে বিভিন্নভাবে জুয়ার কারবার চলে। এভাবে অনেকেই রাতারাতি বিপুল টাকার মালিক হয়ে যায়, আবার অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে যায়,
 রায়পুর উপজেলায় কিছু ব্যবসায়ী রয়েছে যারা আজ আইপিএল জুয়া খেলার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভিটা বিক্রি করে শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান পরছে,কোন কোন ব্যবসায়ী আইপিএল জুয়া খেলতে খেলতে এক সময় এত বেশি ঋণ করে ফেলেছে পরে দোকান বিক্রি করে মানুষের অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে,
একজন ট্রাক মালিক কে চিনি যে সব সময় জুয়ার নেশায় মাতাল হয়ে থাকতো সব সময়,একসময় তার চল্লিশ লক্ষ টাকার ট্রাক 25 লক্ষ টাকা বিক্রি করে এখন সে ড্রাইভার, তাদের এই সর্বশান্ত অন্যতম কারণ হচ্ছ আইপিএল জুয়া ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেট এখানে জোয়ার কলঙ্ক লেগেছে অনেক আগেই, এ করোনাভাইরাস মহামারীতেও থেমে নেই আইপিএল জুয়া জুয়া,
 আইপিএল খেলা নিয়ে অনেক রকম জুয়া খেলা হয়। ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জুয়া খেলা হয়। এ ছাড়া কোন ওভারে কত রান হবে? কোন বোলার কত উইকেট পাবে? কোন ব্যাটসম্যান কত রান করবে? শেষ ওভারে কত রান হবে? এমনকি কোন বলে কত রান হবে—এসব নিয়ে বাজি ধরা হয়।
আইপিএল নিয়ে জুয়া চলতে দেখা যায় রায়পুর উপজেলার বাজার জাতীয় দোকানগুলোতে। সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকে। অনেকে বিনোদনের জন্য খেলা দেখে আবার অনেকে জুয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এই জুয়া মূলত ১৫ থেকে ৩৫ বছরের যুবকেরাই বেশি খেলে থাকে। 100-500থেকে শুরু করে হাজার হাজার টাকার জুয়া ধরা হয়। বিশেষ করে যদি দুর্বল কোনো দলের সঙ্গে শক্তিশালী কোনো দলের খেলা থাকে তাহলে দুর্বল দলের জন্য তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত টাকার লোভনীয় অফার দেওয়া হয়। জুয়াড়িদের বাসায় একে লোপা বলা হয়,
অনেক মানুষ এই ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। জুয়া খেলার টাকা সংগ্রহ করতে অনেকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানির মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। পরিবারে অশান্তি দেখা দেয়। সামাজিক অবক্ষয় সর্বনিম্ন স্তরে চলে যায়।
একটি ছোট্ট ঘটনা, কয়েক দিন আগে এক রাতে আমি  দোকানে জাপান করতে। অনেক রাত তখন। দোকানে কেউ নেই। শুধু আমরা কয়েকজন বআইপিএল খেলা দেখছি। ম্যাচের পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে রাজস্থান রয়্যালস হেরে যাচ্ছে এবং মুম্বাই ইন্ডিয়া জিতে যাচ্ছে। সেই সময় হঠাৎ খেয়াল করলাম  এক জনকে অনেক চিন্তিত লাগছে। তার আচরণ অস্বাভাবিক লাগছে এবং রাজস্থান রয়্যালস হেরে যাওয়াতে সে অনেকটা বিষণ্ন হলো। তার কিছুক্ষণ পর তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম সে বাজি ধরেছিল রাজস্থান রয়্যালসের পক্ষে। পুরো 10000 টাকা সে হেরে গেল। আরও জানতে পারলাম সে এমন বাজি নিয়মিত ধরে আইপিএল খেলাকে কেন্দ্র করে। কোনো দিন জেতে আবার কোনো দিন হেরে যায়। আমি আরও জানতে পারলাম এর সঙ্গে গ্রামের বেশিরভাগ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ছেলেই জড়িত। তারা নিয়মিত জুয়া খেলে আইপিএল নিয়ে।
অনেকে বাজি ধরে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার চেষ্টা করে। অনেকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যায়। আবার বেশির ভাগই সর্বস্ব হারায়।
জুয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের আইন
বাংলাদেশে জুয়া-বাজি ইত্যাদি নিষিদ্ধ। ১৮৬৭ সালে প্রণীত বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন দেশে এখনো প্রযোজ্য। আইন অনুযায়ী, কোনো ঘর-বাড়ি, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
এধরনের কোনো ঘরে তাস-পাশা, কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে, তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
পুলিশ জুয়া-সামগ্রীর খোঁজে যেকোনো সময় (বলপ্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবেন বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। (এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমানও রেসকোর্স ময়দানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘোষণা করার সময়েই এ দেশে সব রকমের রেস জুয়া বন্ধের কথা বলেছিলেন। )
ইসলাম জুয়াকে যেভাবে দেখে
ইসলামে জুয়া-বাজি ইত্যাদি স্পষ্ট হারাম,জুয়া সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, তাহলেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ আদায়ে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না। ’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৯০-৯১)
কোরআনে মদ ও জুয়াকে ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। এগুলো থেকে দূরে থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মদ-জুয়ার মাধ্যমে পরস্পর শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। উপরন্তু এগুলোর মাধ্যমে শয়তান মানুষকে নামাজ ও আল্লাহতায়ালার স্মরণ থেকে বিমুখ রাখে। মদ-জুয়া হারাম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই।
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ লাত-উজ্জার শপথ ইত্যাদি বললে, তবে সে যেন সঙ্গে সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। আর কেউ যদি অন্যকে প্রস্তাব দেয়, এসো আমরা জুয়া খেলি; সে যেন (জরিমানাস্বরুপ) দান-সদকা করে। (বুখারি, হাদিস: ৪৮৬০;
জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম
সব ধরনের জুয়া-বাজি ইসলামে অবৈধ। জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম। হারাম ভোগ করে ইবাদত-বন্দেগি করলে, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন না। তাই মুসলমান হিসেবে সব ধরনের জুয়া-বাজি থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের রায়পুর উপজেলায় বসছে জুয়ার আসর। কৃষক, তরুণ, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছেন মরণনেশা জুয়ায়। এসব আসরে উড়ছে লাখ লাখ টাকা। মাদকের মতোই জুয়ার গ্রাস এখন দৃশ্যমান,
ইতিমধ্যে কিছু পত্রপত্রিকায় এ বিষয়ে লেখালেখি হলেও তার পরিমাণ অতি নগণ্য। কিন্তু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই জুয়া খেলা। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় যুবকেরা বেশি পরিমাণে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কিছু টাকা লাভের আশায়। কিন্তু এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে।
তাই পুলিশ প্রশাসনকে এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবার ও সমাজকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেরা কোথায় যায়, কী করে তার খোঁজ রাখতে হবে পরিবারকে। অন্যথায় করোনাভাইরাস মহামারি এবং ধর্ষণ মহামারির মতো আইপিএল জুয়াও মহামারি আকার ধারণ করবে বলে আমার ধারণা।
জাহারান আব্দুল্লাহ রায়হান
শিক্ষার্থী:হিসাববিজ্ঞান বিভাগ,চতুর্থ বর্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Lakshmipurer Chitro
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102
Protected